জাল ভ্যাকসিন কাণ্ডের নায়কের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলা রুজু করার নির্দেশ। সত্যি কী অনিচ্ছাকৃত খুন নাকি ইচ্ছাকৃত খুন? - PranKrishna

PranKrishna

সত্যের সন্ধানে / সত্যের পথে

Breaking

Home Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

الاثنين، 28 يونيو 2021

জাল ভ্যাকসিন কাণ্ডের নায়কের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলা রুজু করার নির্দেশ। সত্যি কী অনিচ্ছাকৃত খুন নাকি ইচ্ছাকৃত খুন?

*অনিচ্ছাকৃত খুন ?*

আনন্দবাজারের রিপোর্ট যদি সত্যি হয় ? কি লিখেছে  ২৬ জুন, আনন্দবাজার ? প্রথম পাতায় ?

- পুলিশ কমিশনারকে ফোন মুখ্যমন্ত্রীর/ অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলার নির্দেশ ।
দেড় হাজার লোককে জাল ইনজেকশন দেওয়ার পরও সেটা "অনিচ্ছাকৃত খুন" হতে পারে ? সেই লাইনে মামলা হতে পারে ? কোন সভ্য দেশে ?
আনন্দবাজারের প্রতিবেদক এরপর লিখেছেন মুখ্যমন্ত্রী এতটাই ক্ষুব্ধ যে দেবাঞ্জনকে রাস্তায় দাঁড় করিয়ে ৫ হাজার বার ওঠবোস করানো উচিত বলে ঘনিষ্ঠ মহলে মন্তব্য করেছেন ।
বুঝলেন কিছু ? যে প্রতারকের ফাঁসি হওয়া উচিত ছিল, প্রশাসনের  মাথা বলছে অনিচ্ছাকৃত খুন ! বলছে কান ধরে ওঠ বোসের দাওয়াই । কিছু বুঝলেন ?
"ফাঁসির বিকল্প কান ধরে ওঠবোস।" কারণ রাজ্যের নাম পশ্চিমবঙ্গ । এখনকার মুখ্যমন্ত্রীর নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । এখানকার অধিকাংশ বাংলা সংবাদ মাধ্যম হল গৃহপালিত ।

ঘটনাটা এরকম - আপনি গাড়ি চালাচ্ছেন, কেউ গাড়ি চাপা পড়ল । অনিচ্ছাকৃত খুন বলা যেতেই পারে । কিন্তু আপনি জেনে শুনে ইচ্ছাকৃত ভাবে কাউকে যদি চাপা দেন তাহলেও কি একই তত্ব খাটে ? খাটানো যায় ? কোন সুস্থ মানুষ সেই তত্ব বিশ্বাস করবে ? দেবাঞ্জন যা করেছে সেটা কি না জেনে ? তাহলে অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলার নির্দেশ কেন ? কি কারণে ? কাকে কাকে আড়াল করতে ? বলুন ? কার ছাতার আড়ালে এই প্রতারকের বেড়ে ওঠা ? বলুন মুখ্যমন্ত্রী বলুন ।

আসলে মমতা এখন খেলছেন উইংস এর আড়াল থেকে । কারণ এত বড় অপরাধের সামান্য দায় তিনি নেবেন না । তিনি সম্যক জানেন যা হয়েছে তার গভীরতা, তার ব্যাপকতা । লক্ষ্য করুন মুখ্যমন্ত্রী নিজে কোন প্রেস বাইট এত সেনসেটিভ একটা ইস্যুতে দিচ্ছেন না । দোসর এক শ্রেণীর পেটোয়া বাংলা সংবাদ মাধ্যমকে দিয়ে আড়াল থেকে প্রচার চালাচ্ছেন - মুখ্যমন্ত্রী ভীষণ কড়া । এই নির্দেশ দিয়েছেন, সেই নির্দেশ দিয়েছেন । ইত্যাদি ...ইত্যাদি ।

তিনি নিজেও জানেন তাঁর তৈরি করা স্বর্গ রাজ্যে তিন বছর ধরে একজন ফেক আই এ এস ক্ষমতার অলিন্দকে ব্যবহার করে নিশ্চিন্তে অপারেট করে গেছে  । ববি, অতীন, শান্তনুর ছায়া সঙ্গী হয়ে পাওয়ার করিডোর দাপিয়েছে । ফেক ব্যাংক একাউন্ট খুলে লক্ষ লক্ষ টাকার ডিল করেছে । দেড় হাজার মানুষের দেহে বিনা বাধায় জাল ওষুধ ঢুকিয়ে দিয়েছে । পুলিশ জানেনি, পুরসভা জানেনি । সব এমনি এমনি হয়ে গেছে ?

 খাবেনা মানুষ এই তত্ব । বুঝেছেন ।

তাই সরকারের এখন ভাব ভঙ্গি - একটা লোক প্রতারক । তিনি 'ব্যক্তি প্রতারক' । এর সঙ্গে সরকারের কোন সম্পর্ক নেই । লোকটির কাজ কারবার দেখে মুখ্যমন্ত্রী ভীষণ কড়া হয়েছেন । পুলিশ কমিশনারকে বলেছেন অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলা করতে, পারলে পাঁচ হাজার বার প্রকাশ্যে ওঠ বোস করিয়ে নাও ।

কিছু বুঝলেন ?  

একটা সরকার চলছে । কেউ যদি প্রশ্ন করেন -

তার পুর প্রশাসন কলকাতা শহরে কি করছিল ? 

পুরসভার স্বাস্থ্য অফিসাররা কি করছিল ?

 কসবা থানার ওসি কি করছিল ? 

পুলিশের তো আই বি দফতর আছে ? তার গোয়েন্দারা ? শুধু কি বিরোধীরা কে কোথায় যাচ্ছে তা দেখতে ব্যস্ত ছিল ? 

পাড়ার শাসক দলের চুনোপুটি নেতারা যারা আপনার বারান্দায় কাক বসলেও নজর রাখে তারা জানতেন না "এই জালিয়াত" পুরসভার কেউ নয় ? 

মঞ্চে নেতারা বসে থেকেছেন, ঘোষণা হয়েছে পুরসভার যুগ্ম সচিব দেবাঞ্জন দেবের নাম । তাঁরা শোনেননি সেই ঘোষণা, হয় ?

বড় কাঁচা চিত্রনাট্য । নয় কি ।

একদিন নয় টানা তিন বছর ১০৯৫ দিন এই কীর্তি করে যাওয়ার পর প্রায় দেড় হাজার মানুষ মারার প্রক্রিয়া সারার পর সব কিছু যখন জানাজানি হয়ে গেছে এখন মুখ্যমন্ত্রী কড়া হচ্ছেন ? তাও আবার অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলা করার নির্দেশ দিয়ে ? কান ধরে ওঠ বোস করানোর দাওয়াই দিয়ে ?
কতটা নির্লজ্জ না হলে এমন শাসক হওয়া যায় !! কেউ বলতে পারেন ?

আসলে গত দশ বছরে এভাবেই প্রতারকরা শাসকের ছাতার আড়াল পেয়েছে এ বঙ্গে । সুদীপ্ত সেন, কুণাল ঘোষ, বিনয় মিশ্রর সেই লাইনেই এবার দেবাঞ্জন দেব নবতম সংযোজন । কিছুদিন আমরা তাদের নিয়ে ব্যস্ত থাকব । তারপর ভুলে যাব সব জালিয়াতির ইতিহাস ।

ব্যস্ত হয়ে পড়ব খেলা মেলা উৎসবে । ততদিন পর্যন্ত এই " কড়া কড়া " নির্দেশের গল্প শুনব আমরা । আড়াল থেকে তৈরি করা এই গল্পের রানিং কমেন্ট্রি করে যাবে বাংলা মিডিয়ার গৃহপালিতরা ।

: মিমি রাজনীতিতে নতুন, সোজা পুলিশে চলে গেছে। এখন মিমির ট্রেনিং হবে কালীঘাটে। তুমি সোজা পুলিশে গেলে কেন ? মিডিয়া কে বললে কেন? আমাদের আগে জানানো উচিত ছিল। প্রশাসনের বদনাম হলো। আমরা ম্যানেজ করে দিতাম...... ইত্যাদি। মিমি অজান্তে ভীমরুলের চাকে ঢিল মেরেছে।

মেডিক্যাল কলেজ নির্মল মাঝির কিছু হলো? ১১ লক্ষ টাকার ইমপোর্টেড ইঞ্জেকশন চুরি হয়েছে। improper requisition দিয়ে, ওনার নাম করে, receipt এ সই না করে ১১ লক্ষ টাকার দুষ্প্রাপ্য জীবনদায়ী ইঞ্জেকশন ভ্যানিশ করে দেওয়া হয়েছে। পুলিশে কোনো FIR হয় নি। এক বেচারী young ডাক্তারকে শীতলকুচির গ্রামে বদলি করলো। সাসপেন্ড বা terminate করল না কেন? ১১লক্ষ টাকা compensation কে দেবে? জনগণ ?

ليست هناك تعليقات:

إرسال تعليق

Post Bottom Ad

Responsive Ads Here

Pages